ভারতের বিজেপীর রাজনীতির নেপথ্য আরএসএস-এর উত্থান

প্রবাহ ডেস্ক : ভারতের বর্তমান রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের বিবর্তনে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। গত কয়েক দশকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিবর্তন এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রসারে এই সংগঠনটি পর্দার আড়াল থেকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই সংগঠনের একজন দীর্ঘকালীন সদস্য। ফলে আরএসএস-এর আদর্শ এখন ভারতের জাতীয় নীতি নির্ধারণে এক বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে।
মূল লক্ষ্য ও আদর্শ : আরএসএস-এর মূল উদ্দেশ্য ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পুনর্গঠন করা। সংগঠনটির মতে, শত বছরের ব্রিটিশ এবং মুঘল শাসন ভারতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিয়েছে। সকালে শরীরচর্চা, ধ্যান এবং সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তাদের শাখাগুলোতে (ঝযধশযধ) সদস্যদের হিন্দু জাতীয়তাবাদের দীক্ষা দেওয়া হয়।
বিতর্ক ও সমালোচনা : তবে আরএসএস-এর এই উত্থান ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, সংগঠনটি ভারতের সংবিধানের মূল ভিত্তি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র পরিবর্তে উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রচার করছে। এনপিআর-এর প্রতিবেদনে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের সঙ্গে আরএসএস-এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সংগঠনটি সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে হত্যাকা-ের সময় গডসে তাদের সদস্য ছিলেন না।
রাজনীতিতে প্রভাব : বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি (ইঔচ)-কে আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক নীতিমালায় হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরএসএস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভারতের বড় বড় শহরগুলোর নাম পরিবর্তন এবং অযোধ্যার রাম মন্দির আন্দোলনের নেপথ্যেও এই সংগঠনের শক্তিশালী অবস্থান ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএস কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি ভারতের সমাজকাঠামো পরিবর্তনের এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যার প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গ-ি পেরিয়ে এখন বিশ্ব দরবারেও আলোচিত হচ্ছে।



