বিনোদন

বেঁচে থাকলে আজ ৮৫ বছরে পা রাখতেন এটিএম শামসুজ্জামান

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের শক্তিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)। ১৯৪১ সালের এই দিনে নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এই শিল্পী। বেঁচে থাকলে আজ ৮৫ বছরে পা রাখতেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার ও পরিচালক হিসেবেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেন ‘জলছবি’ সিনেমায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘জলছবি’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘মাটির ঘর’, ‘মাটির কসম’, ‘চিৎকার’ ও ‘লাল কাজল’। ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। তবে ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অসংখ্য খ- নাটক ও ধারাবাহিকেও অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন এই অভিনেতা। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই বরেণ্য শিল্পী পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখেন। তার পরিচালিত একমাত্র সিনেমা ‘এবাদত’। অভিনয় জীবনে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য দুটি বিভাগে পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, কখনোবা খলচরিত্রে তৈরি করেছেন তীব্র ঘৃণা। তার অভিনয়ের স্বতন্ত্র ভঙ্গি ও সংলাপ বলার ধরন বাংলা নাটক-সিনেমায় তাকে করে তুলেছে অনন্য এক শিল্পী। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এটিএম শামসুজ্জামান। তার চলে যাওয়ার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে আজও দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এই কিংবদন্তি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button