পাকিস্তানে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পাকিস্তানে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার, যা দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করেছে। শুক্রবার (৮ মে) পেট্রোলিয়াম ডিভিশনের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ রুপি ৯২ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই মূল্য ৮ মে মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন সমন্বয়ের পর প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪১৪ রুপি ৭৮ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৪১৪ রুপি ৫৮ পয়সা। এর আগে ৩০ এপ্রিলও দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে পেট্রোল ও ডিজেল উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর। ব্যক্তিগত যানবাহন, রিকশা ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে এই সমন্বয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে, যার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দামে ধারাবাহিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। এর আগে মার্চ মাসেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। যদিও সরকার ভর্তুকি ও কর সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে বৈশ্বিক বাজারের চাপের কারণে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সমাধান ছাড়া এই চাপ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র : দ্য ডন, সামা টিভি।



