বেদনাদায়ক আঘাতের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে: মোজতবা খামেনি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বেদনাদায়ক আঘাতের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বাহিনীর তৎপরতার কারণে মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রহরী ও ইরানি যোদ্ধাদের হাতে ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ পাওয়ার পর শত্রু বাহিনী এখন আরব সাগরের বাইরে যেতে সাহস করছে না। তারা যখনই এ ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখনই নিজেদের জন্য ক্ষতির কারণ তৈরি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। মোজতবা খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, খুব শিগগির আরব সাগরও ‘শত্রুদের উপস্থিতি’ থেকে মুক্ত হবে। যদিও তাঁর বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য প্রতিবেদনে এটিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রতি হুঁশিয়ারি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও দাবি করেন, দক্ষিণ ইরানের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় আগে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বাহিনীর পাল্টা তৎপরতার পর তারা আর আগের মতো এগিয়ে আসতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। আরব উপদ্বীপ থেকে পূর্ব দিকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত আরব সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ইরানের উপকূল এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মার্চে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য বার্তাতেও মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের পর ওই নৌপথকে ঘিরে বিধিনিষেধ ও অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজছেন বলে সোমবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যেই মোজতবা খামেনির সর্বশেষ হুঁশিয়ারি দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।



