আন্তর্জাতিক

কী আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্যে?

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বদলে যাচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ। নতুন এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিরোধী শিবির। তবে ব্যবধান থাকলেও কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর সর্বশেষ জরিপের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। বাকি ১৬টি আসন যেতে পারে দুই প্রধান জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর কাছে। জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন নিয়ে নেসেটের একক বৃহত্তম দল হতে পারে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২০টি আসন। ইয়াশারের পর বিরোধী শিবিরের দ্য ডেমোক্র্যাটস ও আভিগদোর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনুÑদুই দলই ৯টি করে আসন পেতে পারে। এ ছাড়া দ্য রিজার্ভিস্টস, আমচা ইসরায়েল এবং কাহোল লাভান চারটি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটে অতি-গোঁড়া দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি, শাস ৭টি, ইতামার বেন-গভীরের জুয়িশ পাওয়ার ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৫টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে উঠে এসেছে। তবে জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে পারছে না। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে দুই প্রধান জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর আসনই সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই নিরপেক্ষ বা দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টুগেদার পার্টি ১৩টি আসন পেয়ে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হতে পারে। ইউনাইটেড আরব লিস্ট পেতে পারে পাঁচটি আসন। পাশাপাশি দ্য রিজার্ভিস্টস, আমচা ইসরায়েল ও কাহোল লাভান চারটি করে আসন পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চ্যানেল ১২-এর জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দল বা তালিকা নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি দল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের নির্বাচনী থ্রেশহোল্ড পার হয়ে নেসেটে আসন পেতে পারে। নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বর্তমান সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সময়ে তিনি দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের অভিযোগের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ রয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপে ইসরায়েলের নির্বাচনী চিত্র এক রকম নয়। জেরুজালেম পোস্ট সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, চ্যানেল ১২সহ কিছু জরিপে আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও অন্য কয়েকটি জরিপে লিকুদ বা নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ ২৭ অক্টোবরের ভোটের আগে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো পরিবর্তনশীল। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, চ্যানেল ১২, জেরুজালেম পোস্ট।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button