পাওয়ারপ্লেতে হতাশার নাম বাংলাদেশ

টি-২০ বিশ্বকাপ
স্পোর্টস ডেস্ক : ‘ভালো শুরু মানে অর্ধেক কাজ হয়ে গেল’- পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার গুরুত্ব বোঝাতে যত উপমা ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে বোধ হয় এটিই সেরা। ক্রিকেটের শুরুলগ্ন থেকেই পাওয়ারপ্লেতে হতাশার নাম বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অন্য দলগুলো খেলে পাওয়ারপ্লে আর বাংলাদেশ পাওয়ারলেস প্লে। স্বভাবতই পাওয়ারপ্লের সেরা দশ দলের তালিকায় নাম নেই টাইগারদের। সকালের সূর্য দেখে বলে দেওয়া যায় দিনটি কেমন যাবে। কুড়ি কুড়ির ক্রিকেটে প্রথম ছয় ওভার দেখে অনুমান করা যায় স্কোরের গতি-প্রকৃতি। টি-টোয়েন্টির রানবৃষ্টির দিনে দেড়শ-পৌনে দুইশ নিতান্তই মামুলি। রানপাহাড় গড়তে লেজের সারির ব্যাটারের গুরুত্ব যেমন, ওপেনারদেরও দায়িত্ববোধ তার চেয়েও বেশি। অথচ বাংলাদেশের ওপেনিং সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অন্যতম অভিজ্ঞ বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ১৬৯ সঙ্গিন, তেমনি পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার ক্ষেত্রেও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৮১ রান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৩ সালে এই স্কোর করেছিল তারা। পাওয়ারপ্লেতে টাইগারদের সর্বনিম্ন স্কোর অবশ্য ১২ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০১২ বিশ্বকাপে। পালকেল্লেতে সেবার ৬১ রান তুলেছিল মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। শুরুর ছয় ওভারের মধ্যে মোহাম্মদ আশরাফুল ও তামিম ইকবালকে হারালেও রানচাকা সচল রাখেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিক। গত পাঁচ বিশ্বকাপের বিশ্লেষণ বলছে, পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ গড়ে ৩৬-এর নিচে রান করতে পেরেছে। আর ব্যাটাররা তাদের স্ট্রাইক রেট করতে পেরেছে ১০০ রানের নিচে, কখনও তা ৯৫ রানের আশপাশে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে বাজিমাত নেদারল্যান্ডসের। ২০১৪ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯১ রান করেছিল ডাচরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইংল্যান্ডের। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৬ বিশ্বকাপে সেবার রানবন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটাররা। তিন উইকেট হারালেও প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে ৮৯ রান করেছিলেন তারা। তৃতীয় সর্বোচ্চ রান দক্ষিণ আফ্রিকার। একই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য করেছিল তারা। ২২৯ রানের ইনিংসের ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে ৮৩ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। ২০২১ বিশ্বকাপে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ভারতের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশেষ ছয় ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৮২ রান করেছিল ভারত। শ্রীলঙ্কাও আছে তালিকায়। পাওয়ারপ্লেতে পঞ্চম সর্বোচ্চ স্কোর লঙ্কানদের। ২০১২ পালকেল্লেতে ৬৮ রান তুলেছিল তারা। যদিও দলীয় স্কোর বেশি দূর এগোয়নি। ১৭৬ রানে থেমেছিল তারা।



